সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে একদল নারীদের সরব ভূমিকায় দেখা যায়। এসব নারীদের আপাদমস্তক কালো বোরখা ও হিজাবে ঢাকা, হাতে কালো মোজা। ধর্মে ও শরিয়াহ আইনের দোহাই দিয়ে গণতান্ত্রিক একটি দেশে এদের দাবি ছবিবিহীন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য।
বাংলাদেশে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিস্তার ও কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। যেখানে সারাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন সহ ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদীদের একই কাতারে দাঁড়াতে দেখা যায়। কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইসলামপন্থী এসব মৌলবাদীদের প্রত্যাখ্যান করে এ দেশের মানুষ। এটি স্পষ্ট যে, এ দেশ মৌলবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে কিছু বাধা রয়েছে।
ছবি ছাড়া পরিচয়পত্র চায় কালো কাপড়ে ঢাকা একদম মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী এসব নারীরা। এরা কোনো সাধারণ নারী নয়।
ধর্মীয় মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থীদের নিকট যৌনাঙ্গের পর্দা ফাটিয়ে উপরের পর্দায় নিজেদের আড়াল করা একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী।
এরা লড়াই করতে জানে, কিন্তু কোন লড়াইটা করা দরকার, তা জানে না। নারীর মুখ দেখানোর স্বাধীনতার জন্য লড়বে না, নারীর শিক্ষা, স্বনির্ভরতা, চলাফেরা, নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার অধিকারের জন্য লড়বে না—লড়বে মুখ ঢেকে রাখার জন্য। লড়বে নিজের পরিচয় গোপন রেখে রাষ্ট্রের কাছ থেকে পরিচয়পত্র আদায় করার জন্য।
মুখ দেখাবে না, অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র চাই। রাষ্ট্রের আইন মানবে না, কিন্তু রাষ্ট্রের দেওয়া সমস্ত সুযোগ-সুবিধা চাই। জমিজমা, সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাসপোর্ট, উত্তরাধিকার, সরকারি সেবা—ইহকালের কিছুই ছাড়তে রাজি নয়। ইহকালের সমস্ত সুখ ভোগ করবে, আবার পরকালের কাল্পনিক সুখটিও যেন হাতছাড়া না হয়, তাই নারীবিদ্বেষী লেবাস গায়ে চাপিয়ে রাখবে।
