Blog

  • নবী মুহাম্মদের দাস ব্যবসা ও জাহেলিয়াত

    নবী মুহাম্মদের দাস ব্যবসা ও জাহেলিয়াত

    নবী মুহাম্মদ নিজেই দাস ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বিভিন্ন যুদ্ধে জয়ী নবার পর যুদ্ধে বন্ধী নারীদের কখনো যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করতেন নিজেই। কখনো ভোগ বিলাসের পর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন। যুদ্ধবন্দিনী নারীদের দাসে রূপান্তর, বিক্রি করা এ ধরণের গর্হিত কাজ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    নবী মুহাম্মদ নিজে নিজেকে নবী হিসেবে প্রকাশ করলেও, উনি ছিলেন মানুষিক বিকারগ্রস্থ এবং নৈতিক অবক্ষয়প্রাপ্ত। এই বর্বর প্রথার বিলোপ ঘটানোর পরিবর্তে নিজেই এর সাথে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন।

    একটি উদাহরণ দেওয়া যাক নবী মুহাম্মদের এক সাহাবীর ভাস্য থেকেই।

    আবদুল মাজীদ ইবনে ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিত; আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের নিকট থেকে যা ক্রয় করেছেন এটা তার দলীল। সে তাঁর নিকট থেকে একটি গোলাম বা বাঁদী ক্রয় করেছে, যার কোন রোগ-ব্যাধি নাই, যা চুরিকৃতও নয় এবং হারাম মালও নয়। এ হলো দু’ মুসলিমের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়।

    বনু কুরাইজা গোত্রে নবী মুহাম্মদ গণহত্যা চালায়। এরপর নারী ও শিশুদের যুদ্ধে বন্ধী করে সাদ হিসেবে বিক্রি করে। অর্থাৎ আরবে নবী মুহাম্মদ আইয়ামে জাহেলিয়াতকে উগ্রবাদ এবং জঙ্গিবাদী ইসলামের সূচনা করেছিলো।

  • ভালোবাসা অপরাধ নয়, দণ্ডবিধি ৩৭৭ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা

    ভালোবাসা অপরাধ নয়, দণ্ডবিধি ৩৭৭ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা

    বাংলাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার ও কুইয়ার) মানুষের সামাজিক ও আইনগত অবস্থান জটিল ও সংবেদনশীল। সংস্কৃতি এবং ধর্ম এমন বৃত্তের মধ্যেই আবর্তিত। এই সম্প্রদায়ের অনেকেই নিজেদের পরিচয় প্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত এবং আতঙ্কিত থাকেন। একটি অস্বাভাবিক আত্মপরিচয় ও মানসিক চাপ; মানবাধিকারহীন জীবনব্যবস্থার মধ্যেই একটি জীবন এগিয়ে চলে।

    আইনের দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারা সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। যৌন সম্পর্ককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু ভালোবাসা কি অপরাধ?

    এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা, মানবাধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থায় আলোচনার পরিসর সীমিত। ধর্মীয় উগ্রতা, হত্যাযজ্ঞ, পুরুষের বহুবিবাহের পথ দেখায় রূপকথার ধর্ম ইসলাম এবং নবী মুহাম্মদ। কিন্তু এ ধর্মের কতজন অনুসারী নবী মুহাম্মদ এবং তার পরবর্তী জমানার খলিফাদের অবাধ যৌন জীবন সম্পর্কে জানেন? যুদ্ধে আটককৃত নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করতো নবী মুহাম্মদ এবং তার সাহাবীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে।

    LGBTQ সম্প্রদায়ের মানুষদের মানসিক যন্ত্রণা, জীবন সম্পর্কে তিক্ততা রাষ্ট্রও কর্ণপাত করে না। আধুনিক সভ্য এ সমাজে রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে স্বাধীনভাবে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে জীবনযাপন করার। ৩৭৭ ধারার মত মানবাধিকার হরণকারী এই সকল আইন বাতিল করে রাষ্ট্রের অবশ্যই মানবাধিকারের জায়গাগুলো সমুন্নত করা উচিত।

  • বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইসমালিক উগ্রবাদী উত্থান নিয়ে কিছু ভাবনা

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইসমালিক উগ্রবাদী উত্থান নিয়ে কিছু ভাবনা

    আবুবকর সিদ্দীক (২৮, আঙ্গারিয়া, শরিয়তপুর) — বাংলাদেশ মানে যদি হয় সকল ইসলামীয় মতবাদ এবং তদসংক্রান্ত অনুশীলনের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য, এবং ‘অন্যদের’ বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও ঘৃণার ধীর-স্থির এবং অতীব যত্নশীল লালন-পালন, তাহলে সে-বাংলাদেশের জন্ম না হওয়াই হয়তো ভালো ছিল। এখানে ‘অন্যরা’ বলতে সমকামী, ট্রান্সজেন্ডার, উভকামী, নাস্তিক, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্যদের বোঝায়। এখানকার যে উগ্র মৌলবাদী আন্দোলন, তা কিন্তু সেই মুসলিম মনোভাবের পরিচায়ক, যা বলে মুসলিমরা অন্য সকলের চেয়ে ভালো এবং এরাই মানব-সভ্যতার শেষ ধর্ম। কী ভয়ংকর আত্মপ্রেমী বিভ্রম! এই বিভ্রম থেকে বেরোতে না পারলে মুসলমানিত্ব লোকাচারে পরিণত হবে। যদিও বলতে হয়, অত্যাচার-নিপীড়নে মুসলমানেরা ইহুদিদের চেয়েও এগিয়ে আছে অনেক।
    [টিকাঃ লিখাটি এথিস্ট ইন বাংলাদেশে মার্চ ১৬, ২০২৫ সালে প্রকাশিত “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইসলামিক উগ্রবাদী উত্থান নিয়ে কিছু ভাবনা?” পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্লগে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]

  • আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী  ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?

    আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?

    আবুবকর সিদ্দিক, ২৮, আংগারিয়া, শরীয়তপুর — আমরা কিছুটা ভয়ের সঙ্গে এই লিখছি। দেখুন, আমরা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম/চাটগাঁয়ের একটি অত্যন্ত রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতেও যথেষ্ট সময় কাটিয়েছি। একটি জিনিস আমরা বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ মিল পেয়েছি। এটি ছিল সকল ধর্মীয় মতবাদ এবং তদসংক্রান্ত অনুশীলনের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য এবং ‘অন্যদের’ বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও ঘৃণার ধীর-স্থির এবং অতীব যত্নশীল লালন-পালন।

    এখানে ‘অন্যরা’ বলতে সমকামী, ট্রান্সজেন্ডার, উভকামী, নাস্তিক, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্যদের বোঝায়। এই মনোভাব কিছু পাকাপোক্তভাবে রয়েছে যে মুসলিমরা অন্য সকলের চেয়ে ভালো এবং এটিই মানব-সভ্যতার শেষ ধর্ম। কী ভয়ংকর আত্মকেন্দ্রিক বিভ্রম!

    এই বিভ্রম থেকে বেরোতে না পারলে মুসলমানিত্ব কুলাঙ্গারিত্বে পরিণত হবে।

    [টিকাঃ মন্তব্যটি দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত “আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?” শিরোনামে লিখায় মন্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয় February 1, 2025; পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্লগে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]

  • মুসলমানিত্বের বিড়ম্বনা

    মুসলমানিত্বের বিড়ম্বনা

    অগাস্ট ২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশী মুসলিম পরিচয় ধারণ করার কারণে বেশ খানিকটা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে—যেগুলো এর আগে কখনো হতে হয়নি বিদেশ বিভুঁইয়ে।

    আমিও কি হিযবুত তাহরীর সমর্থন করি? আমিও সমস্ত ভাষ্কর্য, মুরাল, মূর্তি—এগুলোর বিপক্ষে? শিল্পকলা ঘৃণা করি? অন্য ধর্মাবলম্বীদের ঘৃণা করি? সমকামীতাকে অপরাধ ঠাউরাই? নারীদের জোর করে বোরকা পড়ানোর পক্ষে আমি?

    অসহায় লাগে। কী এক দেশে জন্ম, কী এক ধর্ম আমার নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—যে কারণে এই বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    বাংলাদেশ এক পতনশীল দেশ। ইসলামের উগ্র রূপ এই দেশকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু করার আছে কি?

    সমস্ত ধর্ম-উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া? বাড়াবাড়ি হয়ে যায়?

    কিন্তু এই বৈষম্যবিরোধী যোদ্ধারা যখন বাংলাদেশের ইতিহাসকে ধর্ষণ করে, তখন বাড়াবাড়ি হয় না?

    মুসলমানিত্ব এক অতীব বিড়ম্বনা আজ।

    [ টিকাঃ এখানে লিখাটি পুনঃপ্রকাশিত। এই লেখাটি পূর্বে “এথিস্ট নোট”-এ ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্লগে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]

  • স্বাধীনতার উত্তরাধিকার নাকি মৌলবাদের বৈধতা?

    স্বাধীনতার উত্তরাধিকার নাকি মৌলবাদের বৈধতা?

    ঐতিহাসিক ১৯৭১ থেকে ২০২৪—একটি স্বাধীন মানচিত্র অর্জন এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিপ্লবীদের আত্মাহুতির ইতিহাস। সার্বভৌম এ দেশের গত ৫৬ বছরের অর্জন আসলে কী?

    কিছুদিন পূর্বেও বর্তমান এ প্রজন্মের এক অসীম আত্মত্যাগের নির্মোহ স্মৃতি ছিল। শত শত বুলেটে রক্তাক্ত লাশের সারি আর পুলিশের প্রিজন ভ্যানে পুড়ে যাওয়া কাঁচা মাংসের উটকো গন্ধ। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীসহ দেশের অপামর জনসাধারণ যে প্রত্যাশা আগামীর নতুন একটি বাংলাদেশের জন্য দেখেছিল, এমন স্বপ্ন কারা ধুলিসাৎ করল?

    একটি অভ্যুত্থানের পর জন্ম নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপিও জামায়াতের বীর্যে নিজেদের জন্মপরিচয়ের ডিএনএ নিশ্চিত করল। নিজের মা-বোনদের জামায়াতের নেতাদের কাছে যৌন উল্লাসের জন্য ইজারা দিতে নিজেদের সম্মতি প্রকাশ করল। যেভাবে নবী মুহাম্মদ নিজের পালিত পুত্র যায়েদ ইবনে হারিছের স্ত্রী জাহশকে নিজ স্বামীর সঙ্গে তালাক করিয়ে নিজে বিয়ে করেন। নিজের যৌন লালসার বলি করেন ২৩–২৬ বছরের এ তরুণীকে।

    ১৯৭২-এ নিষিদ্ধ এ জামায়াতের নেতাদের পুরুষাঙ্গ, দাঁড়ি ও পাঞ্জাবিতে এখনও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা নারীদের সম্ভ্রম। এ ইতিহাস অবশ্যই বর্তমান প্রজন্মের অজানা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও দেখা যায় ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং নৈতিক সহাবস্থানে। একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়ে তিনিও জাতীয় সংসদে অবস্থান নেওয়া জামায়াত নেতাদের ধর্ষণের বৈধতা দিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থের প্রয়োজনে তারেক রহমান হয়তো জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান (চুম্মা) শফিকের সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন না। এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে লজ্জার।

    ৯১% সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশটিতে যত না মানুষ ধর্মভীরু, এর চেয়ে বেশি ধর্মান্ধ। এ কারণেই স্বাধীনতার দীর্ঘ একটি সময় পরেও ধবধবে সাদা দাঁড়ি-টুপি পরিহিত জামায়াত আমির শফিকুল ইসলামের মতো একদল চার্লস ডারউইনের তত্ত্বের আদিম, বিবর্তনহীন বানরের প্রজন্মকে জাতীয় সংসদে নিকৃষ্ট জাতিসত্তার নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এবং এ প্রজন্ম প্রশ্নহীনভাবে এসব মেনে নিচ্ছে।

  • ধর্মের আড়ালে ক্ষমতা, যৌনতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ

    ধর্মের আড়ালে ক্ষমতা, যৌনতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ

    ধর্ম (Religion) আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে একটি আতঙ্কের কারণ। পঁচিশ থেকে চল্লিশ হাজার বছর পূর্বে প্রজাতির জাতিসত্তার অজ্ঞতা, মূর্খতা এবং কল্পনাপ্রসূত অসহায়ত্বের মধ্য দিয়েই ধর্মের বিকাশ ও উৎপত্তি। ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান এবং বহুত্ববাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিতে কখনো কখনো আত্মোৎসর্গও করে। এমন সব স্রষ্টার উপাসনা ধর্মবিশ্বাসী মানুষরা করছে, যে স্রষ্টারা যৌন উত্তেজনায় ভোগেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হন, একাধিক বিয়ে করেন, কখনো নিরাকার; স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করেনি—এমন সব অলৌকিক ধ্যানধারণা।

    বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের কথাই ধরা যাক। আল-কোরআনে বলা হয়েছে: “বলুন, তিনি (আল্লাহ) জন্ম দেননি এবং জন্মগ্রহণও করেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা ইখলাস ১১২:২)

    এমন কল্পনাপ্রসূত বয়ানের মধ্য দিয়েই মূর্খ নবী মুহাম্মদের ওপর নাজিল হয় স্রষ্টার বাণী। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রায় চৌদ্দশত বছর ধরে মুসলমানেরা নবী মুহাম্মদকে বিশ্বাস করে যে স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনছে, জিহাদ করছে, স্বীয় গোত্রের মানুষকে কাফির আখ্যা দিচ্ছে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে মানুষ হত্যা করছে কাফের-মুশরিক আখ্যা দিয়ে; সে আল্লাহ আসলে কে? সে আল্লাহ কি আরও প্রজননের ফলে জন্ম? অথবা মুসলমান যে ধর্মের দাওয়াত দিচ্ছে, এসব অযৌক্তিক বিশ্বাস কোন ভিত্তির ওপর একজন মানুষ অবিশ্বাসী থেকে বিশ্বাসী হয়ে উঠবে?

    প্রকৃত অর্থে ইসলামে যে স্রষ্টার ধারণা, এটি ইন্দ্রিয়প্রসূত। কথিত নবী মুহাম্মদ নিজ স্থানে থেকেই স্বীয় অবস্থানের ওপর নির্ভর করেই নিজের লিঙ্গ, শরীর এবং সীমাবদ্ধ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতেই নিরাকার স্রষ্টা (আল্লাহর) ধ্যানধারণা প্রবর্তন করে। সে সময়কার নবী মুহাম্মদের নেতৃত্বে সংঘটিত আরবের যুদ্ধগুলোর বিজয়ের পরবর্তী পরিস্থিতিই বলে দেয় যুদ্ধের উদ্দেশ্য। নবী মুহাম্মদ যুদ্ধে বন্দী নারীদের মালিকানাধীন দাসী (মা মালাকাত আইমানাকুম) হিসেবে গণ্য করেছিলেন। এবং তাদের গণিমতের মাল হিসেবে প্রবল যৌন লালসা নিবৃত্ত করতে ব্যবহার করা হতো।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রথম স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে ২৫ বছর বিবাহিত জীবনের অবসানের পর, যখন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ মারা যান, এরপর থেকেই নবী মুহাম্মদের যৌনতার জীবন শুরু হয়। খাদিজা ছিলেন মক্কার একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও ধনী ব্যবসায়ী নারী। মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহের সময় তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ। কিন্তু খাদিজার কাছে যৌন তৃপ্তি না পেলেও, বিবাহ করার মতো সক্ষমতা দরিদ্র মুহাম্মদের ছিল না। খাদিজার ইন্তেকালের পরেই নবী মুহাম্মদ একে একে বিধবাসহ নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে ১১টি বিয়ে করেন। এসব বিয়ের পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক কারণের ব্যাখ্যা করা হলেও, তা মূলত ছিল ভণ্ড নবী মুহাম্মদের যৌনতার লালসা।

    ধর্ম বিষয়টি এভাবেই যুগে যুগে অজ্ঞ, মূর্খ সমাজে বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষের স্বীয় ইচ্ছা, কামবাসনা, অভিপ্রায় এবং প্রভাব বিস্তারে কাজ করেছে। প্রকৃত অর্থে ধর্ম এমন এক ধারণা, যার স্রষ্টাদের আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষ যুক্তিবাদ, বৈজ্ঞানিক মনন, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশে বিশ্বাসী; অন্ধ বিশ্বাসে নয়।

  • জঙ্গিবাদ ও ধর্মানুভূতির রাজনীতি: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে

    জঙ্গিবাদ ও ধর্মানুভূতির রাজনীতি: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে

    বাঙালি মুসলমানের ধর্মানুভূতির বিষয়টি স্পর্শকাতর। যৌনাঙ্গের মতো অনুভূতিপ্রবণ। এমন অনুভূতি মুমিন মুসলমান পুরুষকে তাড়িত করে বেহেশতে গিয়ে ৬০ হুরের সঙ্গে যৌন সঙ্গমের অতৃপ্তি নিয়ে উল্লাসের খোশ আমদেদে উন্মত্ত হতে। আর নারী?

    সেবাদাসী হিসেবে আদমের একাকীত্ব, পৃথিবীকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করার অভিপ্রায় থেকেই সৌন্দর্য, রূপ, গন্ধে, যৌন আবেদনে দুর্বলতম এক সত্তা। শিল্পকলার নিপুণ সৌন্দর্যে প্রতিষ্ঠিত স্বর্গীয় বেহেশতেও নেই বহু পুরুষের ব্যবস্থা। অথচ সৌন্দর্যশিল্প নিয়ে প্রাগৈতিহাসিকভাবেই সত্য, নারী আছে বলেই পুরুষের স্বপ্নদোষ সমঝোতা বুঝে।

    সম্প্রতি ৩০ এপ্রিলের বিবিসির একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সুখকর কোনো অনুভূতি নয়।

    মুসলমানের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরানের শপথ নিয়ে বেহেশতে যাওয়ার উন্মাদনায় মেতে উঠতে চাইছে একদল অনুভূতিপ্রবণ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ। ধর্মানুভূতিপ্রবণ, যাদের চোখেমুখে খোদা তায়ালার দেখানো বেহেশতি নারীর প্রতি প্রবল যৌন লালসা দৃশ্যমান।

    কিন্তু অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করে কি বেহেশতে যাওয়া যায়? এমন কিছু বিস্ময়বোধ তৈরি করে।

    জঙ্গি হামলার মতো সবচেয়ে আলোচিত সর্বশেষ ঘটনা ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়। ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে একটু পেছনে ফেরা যাক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই যে দৃশ্যটি এ দেশের গণতান্ত্রিক, শান্তিপ্রিয় মানুষকে আবারও দেখতে হলো, একদল মানুষ লম্বা জোব্বা, টুপি পড়ে বেরিয়ে এলো হাতে কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে, “নারায়ে তাকবির” স্লোগান তুলছে রাজধানী ঢাকার প্রধান স্পটগুলোতে।

    কিন্তু এবার তারা নিজেদের পরিচয় জানান দিলেও নজর এড়িয়ে গেল ভিন্ন কিছু। একদল বিশ্ববিদ্যালয়গামী, গৃহিণী এবং কর্মজীবী নারীদেরও দেখা গেল “নারায়ে তাকবির” স্লোগানে রাস্তায় দলবেঁধে বেরিয়ে আসতে। বেশ উগ্র, উন্মাদ এবং উন্মত্ত। এদের কারও পরিচয় শনাক্ত করা গেল না। আপাদমস্তক এ তপ্ত রোদের মধ্যেও কালো কাপড়ে ঢাকা। যেন সমস্ত শহরে যমটুপি পরে ঘুরছে।

    এমন দৃশ্য দেখার পর দেশের সাধারণ মানুষ একটি রাষ্ট্রে চিৎকার করে কাঁদছে। মৃত্যুভয়। অপমৃত্যুর স্লোগান সারা শহরে উল্লাস করে বেড়াচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন দৃশ্যের মঞ্চায়ন দেখতে চায় না। দেখতে চায় না অনুভূতিপ্রবণ কোনো নারী কালো কাপড়ের নিচে গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিকৃষ্টভাবে কাউকে হত্যা করুক। ধর্মের এমন অসততা, অপবিত্রতা থেকে এমন অনুভূতিপ্রবণ নারীদের ফেরানোর দায় রাষ্ট্র ও সমাজের।

    এ নারীরা অবশ্যই ভেবে দেখবে, যে পুরুষেরা ইসলামী জঙ্গিবাদের নামে এমন নারীদের জিহাদে পাঠিয়েছে। যে স্রষ্টার আরাধ্য তারা চায়, সে স্রষ্টা (আল্লাহ) নিজেও একজন জুয়াড়ি, যিনি পুরুষকে বেহেশতে দিতে চান অসংখ্য যৌন দাসী এবং হেরেমখানা। আর নারী?